হাতের মুঠোয় স্বস্তি!

December 28, 2023

জাহিদার স্বামী বিদেশে থাকেন। এ কারণে একলা হাতে তাকে সবটাই সামলাতে হয়। এত কিছুর মধ্যে কিস্তি চালানো অসম্ভবই হয়ে পড়ত যদি ব্র্যাক কিস্তি দেওয়ার বিষয়টি এতটা সহজ করে না তুলত।

“যাওয়া-আসা আর লাইন ধরার সময় বাঁচে। আমরা একটু জিরানোর সময় পাই। এই সুবিধাটা আরও আগে থেইকা থাকলে ভালো হইতো। এখন মাসের বেতন ঢোকার পরপরই কিস্তির টাকা কাইটা নেয়। আমাগো আর কোনো চিন্তাই থাকে না!”

জাহিদার মনে এখন তৈরি হয়েছে আস্থা এবং আত্মবিশ্বাস। জীবনে যত বড় সমস্যাই আসুক না কেন, সমাধানের পথ তিনি খুঁজে পাবেনই!

জাহিদা বেগম একজন গার্মেন্টস কর্মী। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। ঘরের কাজ এবং বাইরের কাজ এ দুই নিয়ে ভীষণ পেরেশান। তবুও জীবনটাকে তিনি এক ছকে বেঁধে ফেলেননি। বাবার জমিজমা নিয়ে জটিলতায় বড় মেয়ে হিসেবে তিনিই এগিয়ে আসেন। সমস্যা সমাধানে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা ও সদিচ্ছা দেখে কে বলবে একসময় পড়ালেখা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি! শৈশব থেকেই নানা ধরনের অভাব-অনটনের মুখোমুখি জাহিদাকে স্কুল পাস করার আগেই গার্মেন্টেসে কাজ শুরু করতে হয়। আজ তিনি হার না মানা নারী।

জাহিদা মনে করেন নিজের রোজগার থেকে কিস্তি পরিশোধ করতে পারলে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সাহস থাকে। প্রয়োজনে বাবার পাশে যেমন দাঁড়িয়েছেন তেমনই ঋণ নিয়েই তো জমি কিনেছেন। নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চালিয়ে যাচ্ছেন ২টি ডিপিএস।

জাহিদার স্বামী বিদেশে থাকেন। এ কারণে একলা হাতে তাকে সবটাই সামলাতে হয়। এত কিছুর মধ্যে কিস্তি চালানো অসম্ভবই হয়ে পড়ত যদি ব্র্যাক কিস্তি দেওয়ার বিষয়টি এতটা সহজ করে না তুলত। এই ধরুন সমস্যা তো অনেকই থাকে। জরুরি না হলে কাজের দিনে ২/৩ ঘণ্টা ছুটি পাওয়া অসম্ভব। কিস্তি দেবেন কোথায় গিয়ে, কীভাবে? ব্যাংক বা এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় দীর্ঘ লাইন ধরতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে সময় হয় না। আবার নগদ টাকা নিয়ে যাতায়াতের ঝুঁকি তো রয়েছেই।

জাহিদার মতো অনেক গ্রাহকের কথা ভেবে ব্র্যাক ‘ক্লায়েট ইন্টারঅ্যাকশন পয়েন্ট’ বা সিআইপি সুবিধা চালু করেছে। গার্মেন্টসে কাজের ফাঁকে কর্মীদের ব্যক্তিগত কাজে বের হওয়ার সুযোগ বলতে শুধু দুপুরের খাবার সময়টুকু। তাই তাদের যাতায়াতের সময় বাঁচাতে জরুরি আর্থিক কাজগুলো যেন দ্রুতই সেরে ফেলা যায় সেই উদ্দেশ্যেই সিআইপি’র প্রবর্তন। বর্তমানে গার্মেন্টস কর্মীদের আর্থিক সেবা দিতে কাজ করছে ২০টি সিআইপি। এগুলোর অবস্থান তাদের কর্মক্ষেত্রের খুব কাছে।

মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির ‘সিআইপি’ সুবিধা আর্থিক লেনদেনকে করেছে আরও সহজ

জাহিদার মাসিক পারিশ্রমিক জমা হয় রকেট ওয়ালেটে। তাই তার মতো গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি আর্থিক সেবা আরও দ্রুত এবং সহজ করতে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল) -এর সঙ্গে একটি যৌথ কর্মসূচি চালু করেছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি।

এখন একজন গার্মেন্টস কর্মী চাইলেই তার রকেট ওয়ালেটের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন এবং অটোডেবিট পদ্ধতিতে সঞ্চয় বা কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। একইসঙ্গে সদস্য রকেট অ্যাপ বা ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম, কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা প্রদান করতে পারবেন।

বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচিই প্রথম গ্রহণ করেছে যা গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন সহজ করেছে এবং এর মাধ্যমে অনেক নারী গ্রাহকদের ডিজিটাল ফাইন্যান্সের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তাদেরই একজন জাহিদা, যিনি খুব সহজেই রপ্ত করে নিয়েছেন কীভাবে ডিজিটাল উপায়ে কিস্তি পরিশোধ করা যায়।

5 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments