হে মহাজীবন

May 6, 2018

স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের কোটি কোটি নরনারীর জীবনধারাকে স্পর্শ করেছেন। সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তাঁর চিন্তাধারাজাত অসংখ্য উদ্যোগ পৃথিবীর লক্ষ-কোটি প্রান্তবর্তী মানুষকে নবজীবনের সন্ধান দিয়েছে।

মহাকালের অন্তহীন পথপরিক্রমায় সময় বয়ে চলেছে অবিরাম। কালের সেই আবর্তনে আবারও এসেছিল একটি সমুজ্জ্বল দিন ২৭শে এপ্রিল। আমাদের প্রিয় আবেদভাইয়ের জন্মদিন। এ বছর স্যার ফজলে হাসান আবেদ ৮৩ বছরে পদার্পণ করলেন। জন্মদিনের এই শুভক্ষণে আমরা সবাই তাঁকে আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। আমরা কামনা করি দিনটি বারে বারে ফিরে আসুক, তাঁর জীবন শতবর্ষের সীমানা পেরিয়ে আরও সম্মুখে প্রসারিত হোক।

যে কোনো বিচারেই আবেদভাইয়ের জীবন এক মহাজীবন। পৃথিবীর লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনে আলো জ্বালাবার যে ব্রত তিনি উদ্‌যাপন করেছেন, কোনো কিছুতেই তার তুলনা হয় না। একজীবনে এত বহুমুখী কর্মধারায় যেভাবে তিনি নিজেকে প্রবাহমান রেখেছেন তা এক কিংবদন্তি, মনে হয় এ যেন এক রূপকথার আলেখ্য। কিন্তু আমরা তো জানি, এ কোনো রূপকথা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মৃত্তিকালগ্ন মানুষের জীবনকে বদলে দেবার এ এক অপ্রতিহত লড়াই। যে লড়াই পরিচালনা করতে গিয়ে আবেদভাই নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে গেছেন বারবার। নতুন নতুন স্বপ্ন আর উদ্ভাবনায় দারিদ্র্যকে জয় করে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ জীবন গড়বার পথনির্দেশনা দিয়েছেন। ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সংগ্রামকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশ্বের লক্ষ-কোটি মানুষ তাঁর স্বপ্নের কাছে ঋণী। তিনি তাদের ভেতরকার সুপ্ত সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করবার পথ দেখিয়ে তাদেরকে উন্নত জীবনমান অর্জনের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন। যে মানুষ দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, সহায়সম্বলহীন। তাদের আত্মশক্তির জাগরণই যে তাদের উত্থানের গল্প রচনা করবে এ বিষয়ে তিনি সর্বদাই আস্থাশীল থেকেছেন।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের কোটি কোটি নরনারীর জীবনধারাকে স্পর্শ করেছেন। সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তাঁর চিন্তাধারাজাত অসংখ্য উদ্যোগ পৃথিবীর লক্ষ-কোটি প্রান্তবর্তী মানুষকে নবজীবনের সন্ধান দিয়েছে। শিক্ষালোকিত, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, দারিদ্র্যমুক্ত মর্যাদাপূর্ণ জীবন এখন তাদের চিন্তাচেতনা ও অধিকারের সীমানাকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত করে দিয়েছে। তাঁর হাতে গড়ে তোলা সংগঠন ব্র্যাক এখন বিশ্বের এক নম্বর সংগঠনের মর্যাদায় অভিষিক্ত। ব্র্যাক আর এখন শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, বরং জনকল্যাণ ও সাফল্যের সমার্থক শব্দ হিসেবে এটি এখন লোকমানসে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বের অগণিত মানুষের মনে স্যার ফজলে হাসান আবেদের জন্য রচিত হয়েছে ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার আসন।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যে প্রত্যয়, স্বপ্ন আর সাহস নিয়ে স্যার ফজলে হাসান আবেদ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বয়ম্ভভরতা অর্জনের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তা এখন একটি বিশেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ব্র্যাক এখন শুধু দেশীয় সীমানার মধ্যে আবদ্ধ একটি সংগঠন নয়, বরং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের মধ্যে কার্যক্রম প্রসারিত করে এটি এখন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রসারিত করে দিয়েছে। বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সুখী সমৃদ্ধ জীবন গড়বার প্রত্যয়ে ব্র্যাক এখন ক্রমশই নিজেকে বিস্তৃত করে দেবে, সকলের জন্য বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণই হবে তার লক্ষ্য। স্যার ফজলে হাসান আবেদ এভাবেই তাঁর স্বপ্নের দিগন্তকে আরও প্রসারিত করে দিয়েছেন।

আমরা জানি, একজন মানুষের ব্যক্তিজীবনের বিপুল কর্মধারা যখন মানবকল্যাণে নিয়োজিত হয়, তখন তিনি ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ করেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ তাঁর জীবনসাধনায় ইতিহাসকে ইতিমধ্যেই স্পর্শ করেছেন। ইতিহাস এখন বিশ্বপ্রেক্ষাপটে তাঁর গৌরবময় অবস্থান নির্ধারণ করবে।

জন্মদিনে আবেদভাইয়ের প্রতি আবারও আমাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ব্র্যাকপরিবারের সদস্যবৃন্দ 

ফটো ক্রেডিটঃ নাসির আলী মামুন