শহুরে কৃষি: সময়ের প্রতিফলন

December 13, 2018

বড়ো শহরগুলো ধীরে ধীরে কৃষির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছোটো ছোটো বিভিন্ন উদ্যোগ নগরের মানুষদের নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে, পাশাপাশি উদ্যেক্তা তৈরিতে সাহায্য করছে। এসবের ফলে ছোটো ও মাঝারি ধরনের উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে যারা সবজি, ফুলচাষ এমনকি প্রাণিসম্পদকে একটি শিল্পে রূপান্তর করছে।

দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বন্যা, খরা, সাইক্লোন, নদীভাঙন ইত্যাদির ফলে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চলে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে এবং মানুষ কাজের খোঁজে শহরমুখী হচ্ছে।

শহরের নিম্নআয়ের লোকেরা সাধারণত যেসব এলাকায় বাস করে সেখানে পরিবেশদূষণের মাত্রা বেশি। এক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরিবেশ নীতিমালার সঙ্গে নগর নীতিমালার সংযোগসাধন। শহুরে কৃষি হতে পারে একটি সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা মডেল, যা সুষ্ঠু নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরকেন্দ্রিক কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী এবং সবচাইতে বড়ো শহর। এখানে জমির প্রাপ্যতা আকাশজয়ের সঙ্গে তুলনীয়। ঢাকার নগরবাসীর মধ্যে সতেজ সবজি পাওয়া অথবা সবুজের মধ্যে থাকার আকাক্সক্ষা তীব্রতর হচ্ছে। এসব বিবেচনায় শহরের কৃষি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে এগিয়ে এসেছে।

শহুরে কৃষির উদ্দেশ্য হচ্ছে নগরায়ন এবং নগরায়নের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে খাদ্যনিরাপত্তা বিধান, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। খাদ্যনিরাপত্তা এবং একে কেন্দ্র করে আয়ের উৎস সৃষ্টি করা শহুরে কৃষির একটি প্রধান কাজ। এ ছাড়াও শহরকেন্দ্রিক কৃষি স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও স্থায়িত্বশীল সম্পদে রূপান্তরকরণের কাজও করে থাকে। পচনশীল বর্জ্যকে রূপান্তরের মাধ্যমে জৈবসার হিসেবে কৃষিতে ব্যবহার করা যায়। শুধু তাই নয়, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যেতে পারে। উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন সংস্থা সরকারের সঙ্গে এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বড়ো শহরগুলো ধীরে ধীরে কৃষির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছোটো ছোটো বিভিন্ন উদ্যোগ নগরের মানুষদের নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে, পাশাপাশি উদ্যেক্তা তৈরিতে সাহায্য করছে। এসবের ফলে ছোটো ও মাঝারি ধরনের উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে যারা সবজি, ফুলচাষ এমনকি প্রাণিসম্পদকে একটি শিল্পে রূপান্তর করছে।

ফুল সবারই প্রিয়। প্রতিদিন বিবাহ, জন্মদিন, মিটিং, সভা ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার ক্রমশই বেড়ে চলেছে। ফুলের জোগান দিতে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছেন। সবজিচাষ শহর-এলাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে অনেক সচেতন নাগরিক ছাদে বা এক চিলতে জায়গায় নিরাপদ সবজিবাগান করছেন। অনেকে বাড়িতে কোয়েল বা উন্নতজাতের মুরগি পালন করছেন। টার্কি পালনও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি ডিম তথা প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

ব্র্যাক অনেক আগে থেকেই তালিকাভুক্ত সদস্যদের কারিগরি সহায়তা দিয়ে কৃষিখাতে উদ্যোক্তা তৈরি করছে, তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বর্তমানে ২০টি সিটি কর্পোরেশন এবং মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় কাজ করছে, যারা শহুরে কৃষিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালন করছে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণসহ উপকরণ-সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

অদূর ভবিষ্যতে শহুরে কৃষি সবার দ্বারা সমাদৃত হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সময় এসেছে একে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবার এবং জনপ্রিয় করে তোলার।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of